আজ-  ,
basic-bank
পরীক্ষামূলক প্রকাশনা
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

ইতিহাস সৃষ্টি হলে হারতেও পারেন ট্রাম্প!

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোলাল্ড ট্রাম্পের বিজয় সারাবিশ্বে সাম্প্রতিক সময়ের একটি আলোচিত ঘটনা। ট্রাম্পের বিজয়ের পর দেশটিতে যে আন্দোলন হয় তা আমেরিকার ৫৮টি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ইতিহাসে বিরল। নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীর বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন এবং ক্যালিফোর্নিয়াবাসীর আমেরিকা ছাড়ার দাবি দেশটিতে স্পষ্ট বিভেদের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের চেয়ে ২৮ লাখ ভোট কম পেয়েও ট্রাম্পের বিজয় আমেরিকার অধিকাংশ মানুষ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না। তাই বার বার খোঁজা হচ্ছে ট্রাম্পকে সরানোর সম্ভাব্য সকল পথ।

আগামী ১৯ ডিসেম্বর সর্বশেষ একটি পথের দিকে তাকিয়ে আমেরিকার জনগণ। সেটি হলো ইলেকটোরাল কলেজের ভোট। সেদিন ইলেকটোরাল কলেজের ৫৩৮ জন সদস্য বিভিন্ন রাজ্যে একত্রিত হবেন পরবর্তী প্রেসিডেন্টকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচিত করার জন্য। ইতিহাস বদলালে সেদিন ট্রাম্পের বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকেই।

আগামী ১৯ ডিসেম্বর ইলেকটোরাল কলেজের ৫৩৮ জন সদস্য বিভিন্ন রাজ্যে একত্রিত হবেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য।

যদিও আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী এ ইলেকটোরাল কলেজের ভোটের তেমন কোনো প্রভাব নেই। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারা ‘রাবার স্ট্যাম্পের’ মতো কাজ করে। তবে ২০১৬ সালে ইলেকটোরাল কলেজের ভূমিকায় মনে হচ্ছে সদস্যরা সেখানে ব্যত্যয় ঘটাতেও পারেন।



ইলেকটোরাল কলেজের কোনো কোনো সদস্য এরই মধ্যে বলা শুরু করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের ‘রাবার স্ট্যাম্প’ হবার যে ভূমিকা সেখানে একটা পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি ক্লিনটন শিবির এরই মধ্যে এ ধরনের চিন্তাধারাকে সমর্থনও করছে।

মার্কিন নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়ে প্রমাণের জন্য ইলেকটোরাল কলেজের ১০ জন সদস্য জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালকের কাছ থেকে একটি ব্রিফিং দেবার জন্য অনুরোধ করেছেন। এ ইলেকটোরাল কলেজের সদস্যদের মধ্যে নয়জন ডেমোক্রেট এবং একজন রিপাবলিকান।

ক্লিনটন প্রচারণা শিবিরের প্রধান জন পোডেস্টা বলেছেন, এরই মধ্যে এ ধরনের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন তারা।

আমেরিকার সংবিধানে ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতি চালু করেছেন অ্যালেক্সান্ডার হ্যামিলটন। কোনো অযোগ্য কিংবা বিদেশি শক্তির দ্বারা প্রভাবিত ব্যক্তি যাতে প্রেসিডেন্ট হতে না পারেন সেজন্য সংবিধানে ইলেকটোরাল কলেজ পদ্ধতি চালু করেন তিনি।

যে ১০ জন ইলেকটোরাল কলেজ জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে ব্রিফিং-এর জন্য অনুরোধ করেছেন, তাদের যুক্তি হচ্ছে রাশিয়ার হ্যাকাররা ডেমোক্রেটিক পার্টি এবং হিলারি ক্লিনটনের প্রচারণার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা টার্গেট করে তথ্য নিতে চেয়েছিলেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ট্রাম্পকে সহায়তা করা। এ সংক্রান্ত প্রমাণ গোয়েন্দাদের কাছে আছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

ইতোমধ্যে টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ইলেকটোরাল কলেজের এক রিপাবলিকান সদস্য বলেছেন তিনি ট্রাম্পকে ভোট দেবেন না। কিন্তু ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক বিজয় আটকে দিতে সে অঙ্গরাজ্যের আরও ৩৬টি ইলেকটোরাল কলেজকেও একই পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু সেটা অত্যন্ত কঠিন একটি বিষয়।

কোনো কোনো বিশ্লেষক বলছেন, যিনি এ ধারণার প্রবর্তন করেছেন, তিনি কখনও ইচ্ছা পোষণ করেননি যে ইলেকটোরাল কলেজের সদস্যরা তাদের বিবেচনা অনুযায়ী কাজ করবেন। যদি সেটা হতো তাহলে অতীতে ইলেকটোরাল কলেজের সদস্যরা ভিন্নভাবে কাজ করত। কিন্তু তারা সেটা কখনও করেনি। তারা নিজেরা কখনও একত্রিত হয়নি এবং কোনো বিষয়ে আলোচনা বা বিতর্কও করেনি।

এছাড়া আমেরিকার ২৯টি রাজ্যে এমন আইন আছে যে, সাধারণ ভোটারদের ভোটে যে প্রার্থী বিজয়ী হবেন, ইলেকটোরাল কলেজের সদস্যদেরও তাকে সমর্থন করতে হবে।

কিন্তু কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির দু’জন সদস্য এ ধরনের আইনকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করছেন। যদিও ট্রাম্প শিবির সেটির বিরোধিতা করছে।

আমেরিকার ইতিহাসে এ পর্যন্ত ৫৮টি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইলেকটরাল কলেজ প্রাপ্তির বিবেচনায় ট্রাম্পের অবস্থান ৪৬তম। তার ইলেকটোরাল কলেজ প্রাপ্তির সংখ্যা ৫৬ শতাংশ। যেটা তার আরেকটা দুর্বল দিক। সবকিছুর পরও বাস্তবতা বলছে হিলারির চেয়ে ২৮ লাখ ভোট কম পেলেও হোয়াইট হাউস ট্রাম্পকেই ডাকছে। সূত্র : বিবিসি।