আজ-  ,
basic-bank
পরীক্ষামূলক প্রকাশনা
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

কারা প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়েই চলছে আলোচনা

দেশের সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবীদের শীর্ষ সংগঠন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০১৭-১৮ সালের নির্বাচন এ মাসের ২২ ও ২৩ তারিখ। নির্বাচনে প্রতিবারের মতো এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সমর্থক সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের ‘সাদা’প্যানেল এবং বিএনপি জামায়াত সমর্থিত জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদের ‘নীল’ প্যানেলের মধ্যে।

এবারের নির্বাচনকে ঘিরে চলছে নানা রকম আলোচনা। উভয় প্যানেলই দাবি করছে নির্বাচনে জয়ী হবেন তারা। দুই প্যানেলই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। এবার প্রার্থী হিসেবে থাকছেন কারা সেটাই মূল আকর্ষণের বিষয়। শক্ত প্রার্থী দেয়ার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল কমিয়ে আনাসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করে যেকোনো মূল্যে বিজয় ছিনিয়ে আনতে মাঠে রয়েছেন সরকার সমর্থক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের আইনজীবীরা। সংগঠনের পূর্ণ শক্তি ফিরে পেতে মরিয়া বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। নিজেদের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা দখলে নিতে দুই দলের আইনজীবীরাই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সমর্থক আইনজীবী বাবু নিতাই রায় চৌধুরী জাগো নিউজকে বলেন, ঢাকা বারে সরকার সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে কোন্দল থাকার কারণে তাদের ব্যাপক ভরাডুবি হয়েছে এবং আমরা নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছি। ঢাকা বারে ২৭টি পদের বিপরীতে আমরা প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারিসহ ২১টিতে জিতেছি।তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে আমাদের ভিন্নতা হলো, এখানেও আমাদের কোন্দলের আশঙ্কা নেই। দলীয় কোন্দল না থাকায় এখানে ৫ হাজার আইনজীবী ভোটারদের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে।আশা করছি ঢাকা বারের মতো ভোটের সুবিধা সুপ্রিম কোর্টেও পাব।

বারের সাবেক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, আমরা সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে জয়ী হতে ভীষণভাবে আশাবাদী। ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে(বার)হেরে যাওয়ার পর ট্যাক্সেসেস বারে আমরা নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছি। তিনি বলেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে হেরে গেলেও সারাদেশের সকল জেলা বারেই সরকার সমর্থক আওয়ামী লীগ প্যানেল বিজয়ী হচ্ছেন।সুপ্রিম কোর্ট বারে আমাদের প্রতিধিনিরা আইনজীবীদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তার পাশাপাশি সিনিয়র জুনিয়র সকল আইনজীবীদের মধ্যে দলীয় কোন্দল কমিয়ে আনা হয়েছে। ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে (বারে) হেরে যাওয়ার কারণ ছিল নানা কোন্দল। ওই কোন্দল মিটিয়ে ফেলে নির্বাচনে মনোযোগী হওয়ার জন্য সকল আইনজীবীদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। তারই ধারাবহিকতায় প্রত্যাশা  করছি গতবারের মতো সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে আওয়ামী লীগের বিজয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে।

আওয়ামী যুব আইনজীবী পরিষদের সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসরিন সিদ্দিকা লিনা জাগো নিউজকে জানান, ২০১৬-১৭ সালের সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় না পেলেও সমিতির  সভাপতি অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনসহ গুরুত্বপূর্ণটি ৮ পদে সরকার সমর্থক আওয়ামী আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ জয় পায়। অপরদিকে ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান জাগো নিউজকে জানান, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল(নীল)সাধারণ সম্পাদকসহ ৬টি পদে জয় পায়। এবার শুধু সভাপতিই নয়, নিরঙ্কুশ বিজয় ধরে রাখতে ভালো প্রার্থী নিয়ে মাঠে নামতে চাচ্ছেন সরকার সমর্থক আইনজীবীরা। একইভাবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য পরিষদও ঢাকা বারের নির্বাচনের মতো সুপ্রিম কোর্ট বারে বিজয় অর্জন করতে শক্ত প্রার্থী নিয়ে মাঠে নামতে চায়।

জানা গেছে, ঢাকা বার সমিতি নির্বাচনে খারাপ ফলের কথা মাথায় রেখে সরকার সমর্থক আইনজীবীরা শক্ত প্রার্থী দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে।সরকার সমর্থক আইনজীবী প্যানেলকে মোকাবেলা করে জয় ছিনিয়ে আনতে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরাও শক্ত প্রার্থীর কথা ভাবছেন।ভালো প্রার্থী মনোনয়ন না পাওয়ায় এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ঢাকা বার নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে বলে মনে করেন সরকার সমর্থক আইনজীবীরা।

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচন ঢাকা বার থেকে ভিন্ন। তারপরও এই বার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে কোন ধরনের ক্রটি যাতে না হয় সে বিষয়টি মাথায় রাখা হচ্ছে বলে  সরকার সমর্থক আইনজীবীরা জানান। অপরদিকে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সভাপতি প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি বলে জাগো নিউজকে জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম। শনিবার দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার পর কয়েক দিনের মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, সরকার সমর্থক আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের সাদা প্যানেল থেকে সভাপতি পদে প্রার্থীরা হলেন সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু, মনসুরুল হক চৌধুরী, এসএম শফিকুল ইসলাম বাবু, এসএম মনির, একেএম ফায়েজ ও কেএম মাহবুব উদ্দিন।তবে সভাপতি পদে যারা প্রার্থিতা পেতে পারেন তাদের মধ্যে সিনিয়র আইনজীবী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদারে নাম শোনা যাচ্ছে।

সম্পাদক পদে সরকার সমর্থক আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি যার নাম শোনা যাচ্ছে তিনি হলেন অ্যাডভোকেট আজহারুল্লাহ ভূইয়া।এছাড়া অ্যাডভোকেট রবিউল আলম বুধূ, শেখ আওসাফুর রহমান বুলু, আব্দুর নুর দুলাল, শেখ মো. মোরশেদ, আব্দুল আলম মিয়া জুয়েল, আব্দুর রশিদ ও সৈয়দ মামুন মাহবুবের নামও শোনা যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগপন্থী একাধিক আইনজীবী জাগো নিউজকে জানান, আশা করছি ঢাকা বারের কথা মাথায় রেখে সভাপতি পদে অবশ্যই যোগ্য কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে। তবে সাধারণ সম্পাদক পদকেও কম গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন না তারা। তাই সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট আজহারুল্লাহ ভূইয়া তৎপর বেশি। এছাড়া আইনজীবীদের একটি সুত্র জানায়, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমির উল ইসলামের মেয়ে ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর যদি আওয়ামী লীগের প্যানেলে সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাহলে আওয়ামী লীগের জয় সুনিশ্চিত মনে করেন অনেক আইনজীবী।

নির্বাচনে জয়ী হতে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের ভূমিকার ব্যাপক প্রশংসার করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক আইনজীবীরা। তারা জানান, গত নির্বাচনের আগে অ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার ও অ্যাটর্নি জেনারেল সরকার সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক কাজ করার ফলে তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বারে। তাদের অবদান এবারের নির্বাচনেও থাকবে বলে আশা আইনজীবীদের মাঝে।

অপরদিকে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে বিএনপি সমর্থক প্রার্থী ঠিক করা হবে বলে জানা গেছে। যদি দলীয় প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে বসা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে ব্যারিস্টার মওদূদ আহমদ ও জমির উদ্দিন সরকারসহ বিএনপির সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে কয়েকদিনের মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে।বিএনপি থেকে সভাপতি পদে সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এজে মো. আলী ও  জয়নুল আবেদীনের নাম জানা গেছে। অপরদিকে সম্পাদক পদে ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট শওকাতুল হক শওকত ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের নাম শোনা যাচ্ছে।

নির্বাচন-সংক্রান্ত সাব-কমিটিতে সিনিয়র আইনজীবী এ ওয়াই মশিউর জামানকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা সাব কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুইদিন ব্যাপী এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে সকাল ১০ থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটি ভোট গ্রহণের জন্য এই দিন ধার্য করেছে। একইসঙ্গে তফসিল ঘোষণা করেছে কমিটি।

তফসিল অনুযায়ী, ১ মার্চ থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত মনোয়নপত্র দাখিল, ১১ মার্চ মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন ধার্য করা হয়েছে ১৪ মার্চ। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪টি পদে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সাতটি সম্পাদকীয় ও সাতটি নির্বাহী সদস্যের পদ রয়েছে।