আজ-  ,
basic-bank
পরীক্ষামূলক প্রকাশনা
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

কুমারী পূজায় দর্শনার্থীদের ঢল, নবমী আজ

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উদ্দীপনা ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে গতকাল পালিত হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাষ্টমী। দুর্গোৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং জাঁকজমকপূর্ণ দিন ছিল গতকাল। মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা পালিত হলো মহাসমারোহে। গতকাল মহাষ্টমীতে কুমারী পূজায় রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে মানুষের ঢল নামে। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত কুমারী পূজায় ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। আজ পালিত হবে মহানবমী। গতকাল মহাষ্টমীতে সকালে দুর্গাদেবীর মহাষ্টমী বিহিত পূজা প্রশস্তা ও ব্রতোপবাস অনুষ্ঠিত হয়। চণ্ডী ও মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করা হয়। পূজা শেষে মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ভক্তরা। মহাষ্টমীতে কুমারী বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ চিন্তা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করেন ভক্তরা। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে দেবী জ্ঞানে পূজার কথা উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত কন্যাকেও দেবী জ্ঞানে পূজা করার বিধান রয়েছে। গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে গতকাল বেলা ১১টায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ প্রাঙ্গণ। কুমারী পূজায়
নির্বাচিত কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। কপালে সিঁদুরের তিলক ও পায়ে আলতা দেয়া হয়। হাতে দেয়া হয় ফুল। কুমারীকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয়। চারদিকে তখন মুখরিত হয় শঙ্খ, ঢাকের আওয়াজ, উলুধ্বনি আর দুর্গা মায়ের স্তুতিতে।
আজ নবমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হবে মহানবমী কল্পারম্ভ বিহিত ও সন্ধি পূজা। নানা আচারের মধ্য দিয়ে মহানবমীর পূজা শেষে ভক্তরা দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেবেন। গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের অধ্যক্ষ ধ্রুবেশানন্দ মহারাজ মানবজমিনকে বলেন, সাধারণত মহাষ্টমীর শেষ এবং মহানবমী তিথির সংযুক্ত সময়ে সন্ধি পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, বিশেষ কারণে সন্ধি পূজা গুরুত্বপূর্ণ। এই সন্ধিক্ষণেই দেবী দুর্গার হাতে অসুর বধ হয়েছিল।
এদিকে গতকাল দুর্গোৎসবের মহাষ্টমীতে সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি মানুষের পদচারণা এবং আনন্দ-উল্লাসে মুখর ছিল সারা দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপ। পূজার্চনার পাশাপাশি আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভক্তিমূলক সংগীতসহ ছিল নানা আয়োজন। আগামীকাল শনিবার পালিত হবে বিজয়া দশমী। এদিন দেবী দুর্গা মর্ত্য ছেড়ে কৈলাশে স্বামী গৃহে ফিরে যাবেন। বিজয়া দশমীতে আগামীকাল সকালে দুর্গাদেবীর দশমী বিহিত পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সন্ধ্যায় প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের সমাপ্তি হবে। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানান, এবার সারা দেশে ৩০ হাজার ৭৭টি স্থায়ী, অস্থায়ী মণ্ডপে সম্মিলিত ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গেলবারের চেয়ে এবার পূজা বেড়েছে ৬৮২টি। রাজধানীতে এবার পূজা হচ্ছে ২৩১টি মণ্ডপে। দুর্গোৎসব উপলক্ষে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

 

 

মানবজমিন অনলাইন