আজ-  ,
basic-bank
পরীক্ষামূলক প্রকাশনা
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন; আহবায়ক গয়েশ্বরকে নিয়ে সন্দেহ ও অসন্তুষ্টি

 

শীতলক্ষার তীরে গড়ে উঠা বন্দর নগরী নারায়নগঞ্জের ভোগলিক রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। নানা ঘাত-প্রতিঘাতে আলোচনায় থাকা নারায়নগঞ্জে এখন নির্বাচনের পালে হাওয়া লেগেছে। এবার নৌকা-ধানের শীষের লড়াইয়ে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মাঠে নেমেছেন ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী ও এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন। দুই প্রার্থীরই রয়েছে স্বচ্ছ রাজনৈতিক ইমেজ। নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিএনপির হাজারো অভিযোগ ও অবিশ্বাস থাকলেও স্থানীয় ভোটের লড়াইয়ে দলটি বিন্দু মাত্র ছাড় দিতে নারাজ। যেন বিনা যুদ্ধে নাহি দিব সূচাগ্র মেদিনী। আইভীকে কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে বলে সংশ্লিষ্ট সকলের ধারনা। নির্বাচনে শতভাগ ঢেলে দিয়ে এর ফল ঘরে তোলার মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের চির ধরা মনোবলের উপশম চান বেগম খালেদা জিয়া। তাই তিনি তাঁর গুলশানস্থ কার্যালয়ে নির্বাচনী প্রস্তুতি মিটিং ডেকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় কে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মনোনীত করেন। এতেই অসন্তুষ্ট হন স্থানীয় নারায়নগঞ্জ সিটির নেতা-কর্মীসহ বিএনপির তৃণমূল ও ঢাকার নেতা-কর্মীরা। ঢাকার নিকটতম জেলা ও সিটি করপোরেশন হিসেবে দুই দলের নির্বাচনী গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম মূলতঃ ঢাকা থেকেই পরিচালিত হবে। আবার নির্বাচন পরিচালনার জন‍্য যে ধরনের বিশ্বস্থ ফোর্স লাগে তেমন কোন ফোর্স গয়েশ্বরের হাতে নেই। দলের নেতা-কর্মীদের সাথে তাঁর নেই কোন আত্মীক যোগোযোগ। তিনি মূলত মিডিয়া সর্বস্ব স্ট‍্যাটসম‍্যান পলিটিশিয়ান। তাছাড়া সবচেয়ে বড় কথা তাঁর নিজেরই যেখানে নির্বাচনে পাশ করা তো দূরে থাক,এমনকি নির্বাচনে অংশগ্রহন করার অভিজ্ঞতা পর্যন্ত নেই,সেখানে এত বড় একটা গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন তিনি কেমন করে সামাল দিবেন? এটা দল সংশ্লিষ্ট সকলেরই প্রশ্ন। উপরন্তু নানা বিতর্কিত মন্তব‍্য করে নেতা-কর্মীদের সাথে তার রয়েছে বিস্তর ফাঁরাক। বিশেষ করে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে তাঁর বার বার কটূক্তি নেতা-কর্মীদের মনে সন্দেহ ও অবিশ্বাসের বীজ বপন করেছে। সর্বশেষ তারেক রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে মহানগর বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে -“তারেক রহমান আর দেশে নাও ফিরতে পারেন”,এমন মন্তব‍্যে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা সাথে সাথেই তাকে দুয়োধ্বনি দেন। তারেক রহমান যেন দেশে না ফিরতে পারেন,এমন ষড়যন্ত্রে বাবু জড়িত এমন অভিযোগও নেতা-কর্মীদের মুখে মুখে‌। যে কোন নির্বাচনেই দলের স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসাবে কাজ করে ছাত্রদল। সেই ছাত্রদলকে নিয়ে বাবুর বার বার বিরুপ মন্তব‍্যে তাঁর উপর ক্ষুব্ধ ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটি সহ ছাত্রদলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। এমনিতেই ছাত্রদল গয়েশ্বরের যে কোন ধরনের অনুষ্ঠান বেশ কিছুদিন যাবতই বর্জন করে চলছেন। এ অবস্থায় যেখানে আগামী ২২ ডিসেম্বর নির্বাচন,সেখানে এত স্বল্প সময়ে তাদের সাথে সমন্বয় করা অনেকটাই অসম্ভব। তাছাড়া বিএনপির নির্বাহী কমিটি গঠনের সময় নানা আর্থিক অনিয়ম সহ স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে গয়েশ্বরের বিপক্ষে। তাই নির্বাচনকে ঘিরে আর্থিক অবিশ্বাসের প্রশ্নও এখন সামনে উঠে এসেছে। তাই ক্লিন ইমেজের একজন স্থায়ী কমিটির সদস্যকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক করলে নির্বাচনে আরো সুবিধা করা যেত বলে মনে করছেন নেতা-কর্মীরা।