আজ-  ,
basic-bank
পরীক্ষামূলক প্রকাশনা
basic-bank
সংবাদ শিরোনাম :

নারায়ণগঞ্জে কি আইভি জয়ী হবেন?

সাহেদ আলম

অনেক দিন পর আরো একটি নির্বাচন হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন, যেটা নিয়ে নিরুত্তাপ নির্বাচনী হালচালে কিছুটা আলোচনার ক্ষেত্র তৈরী হয়েছে। ৫ বছর আগে ২০১০ সালে নারায়ণগঞ্জে সেলিনা হায়াৎ আইভি’র জয় দেখেছিলাম মাছরাঙ্গা টিভির হয়ে নির্বাচন কাভার করার সুবাদে। সেবার শামীম ওসমানকে দেখেছিলাম সেলিনা হায়াৎ আইভির কাছে পরাজিত হওয়ার পর তার বাড়ীর সামনে ২/৪টি কুকুর বা ‘এলসেসিয়ান ডগ’ ছাড়া আর কেউ ছিল না।

অন্যদিকে, বিজয়ী সেলিনা হায়াৎ আইভির বাসার সামনে জনতার পদচারণায় ভিতরে ঢোকাই মুস্কিল হয়েছিল। সেই ভিড় ঠেলে তার বাসায় রাত্রি ১০/১১ টার দিকে ঢুকেছিলাম, তাকে সরাসরি টিভি সংবাদে উপস্থিত করেছিলাম। এলসেসিয়ান ডগ কেন বলেছি সেটা পরে আলোচনা করছি, তবে তার আগে বহুল আলোচিত এবারের নির্বাচন নিয়ে দু’চারটি সমীকরণ আর সরলীকরণ করে নেই।

এবারের নির্বাচনটি এমন অবস্থায় হচ্ছে যখন স্বাধীন নির্বাচন কমিশন বলে বাংলাদেশে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন-ই শুধু নয়, এর পরবর্তী যে কয়েকটি সিটি বা পৌরসভা নির্বাচন হয়েছে সেখানে কিভাবে নির্বাচনী খেলা হয়েছে সেটা নিশ্চয় আর ব্যাখ্যা করে বলার অবকাশ নেই। জনগণের ভোট তার ‘পছন্দের প্রতীকে/ বা প্রার্থীর ঘরে যাবে’ এমন ধারণা প্রায় বিলীন হয়ে গেছে বাংলাদেশে, বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছর গুলোতে। ৫জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ৪/৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দিয়ে জনমত জরিপ করতে চেয়েছিল বর্তমান সরকার।

গাজীপুর, যেটাকে বলা হয় দ্বিতীয় ফরিদপুর, সেখানে কখনই আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বাইরে কেউ জয়ী হবে সেটা কল্পনা করেননি আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। সেখানে দূনীর্তির অভিযোগে অভিযুক্ত বিএনপির অধ্যাপক মান্নানের জয় দিয়ে শুরু হয় সরকারী দলের সিটি পতন। এর পর একই দিনে সিলেট, খুলনা, বরিশালে একই ফলাফলে বলা চলে একপ্রকার বিদায় ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছিল সরকারী মহলে। সিলেটের নির্বাচনে আমি মাঠে ছিলাম । গাজীপুরের মত বরিশালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পরাজয়টা ছিল উন্নয়নের বুলি ছড়ানোদের মুখের উপর এক চপেটাঘাতের মত।

উন্নয়ন যদি ভোটের মাপকাঠি হতো তাহলে বরিশালে মেয়র পদে হারের কারণ ছিল না। যাই হোক পরবর্তীতে নির্বাচিত মেয়রদের জেলে ভরে সিটিতে আবার ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। ৫ সিটির কোন মেয়র বোধ করি এখন আর জেলের বাইরে নেই। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কি হয়েছে, সেটা নিয়ে বিস্তর সন্দেহ পোষণ করি আমি আরো অনেকের মত। ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বহুৎ আশা করে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হয়ে মাঠে মাঠে ঘুরেছিলেন বর্তমান যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া ব্লুম বার্নিকাট। তিনি কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে এসে টুইট করেছিলেন, ‘যেনতেন ভাবে জয়ী হওয়াটাই নির্বাচন নয়, জয় নয়’

৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে যা হয়েছে তার লাগাম টেনে ধরার কোন কর্তৃপক্ষ তৈরী হয়নি জাতীয় ভাবে। বরং দিনে দিনে সেই অবস্থার অধপতন এতটাই হয়েছে যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন গুলোতে প্রথম ধাপে যে নির্বাচন হয়েছে পরবর্তীতে তা হরিলুটের প্রকাশ্য মহড়ায় রূপ নিয়েছিল। প্রানহানি আর প্রথম দফার ফলাফলের গনেশ উল্টে যায় পরবর্তী সবগুলো নির্বাচনে। দলীয় প্রতীকে যেহেতু নির্বাচন হয়েছে, তাই দলের মনোনয়ন পাওয়াটাতেই জয় নিশ্চিত মেনে শুধু মনোনয়ন পেতেই কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে, সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই।

যদিও কোন শক্ত প্রতিপক্ষ যেহেতু মাঠে নেই, তাই এই নির্বাচনী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সামান্য মৌখিক প্রতিবাদের বাইরে কৈফিয়ত নেয়ার কোন দল বা গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নেই বর্তমানে। দিক হারা বিএনপি এখন জামায়াতের সাথেই আসন ভাগাভাগি নিয়ে পেরে উঠে না, সরকারের সাথে যুদ্ধে যাবার প্রস্তুতি নেবে কোন দিক দিয়ে! যেহেতু প্রতিপক্ষ বা কৈফিয়ত নেবার কোন পক্ষ নেই, তাই নির্বাচন কমিশনও আল্লার ওয়াস্তে নির্বাচন পরিচালনা করে আসছেন আর তা ‘সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন’ হয়েছে বলে ভাঙ্গা রেকর্ড বাজিয়েছেন এতবার যে কোন কোর লেখক, নির্বাচন কমিশন কে ‘ইউনেসকো হেরিটেজ’ বা প্রাকৃতিকভাবে বিরল একটি প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা দিতে ব্যঙ্গ করেছেন। মূল কথার চেয়ে প্রাসঙ্গিক কথা বেশি হয়ে যাচ্ছে, তাই ফিরে আসি নাসিক নির্বাচনে এবারের প্রেক্ষাপট নিয়ে।

প্রসঙ্গটা হচ্ছে আইভি জয়ী হবেন কিনা? প্রথম এবং সরল বিবেচনায় উত্তর টা হচ্ছে, ‘অবশ্যই জয়ী হবেন’। বেশকটি যুক্তি আছে সেই বাজির পক্ষে।

এক.

ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি পরীক্ষিত নগর পরিচালক।

দুই.

আইভি’র জনপ্রিয়তা এখনও দলমত নির্বিশেষে সবার উর্ধ্বে।

তিন.

সেলিনা হায়াৎ আইভির হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র ‘নৌকা প্রতীক আছে, যার জয় ছাড়া পরাজয়ের নজির সৃষ্টি হতে দেবে না সরকারের নানা যন্ত্র।

চার.

সেলিনা হায়ৎ আইভির সমর্থনে এবার বিভেদ ভুলে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছেন খোদ শামীম ওসমান।

পাঁচ.

সেলিনা হায়াত আইভিকে চ্যালেঞ্জ করার মত যোগ্য প্রতিদ্বন্দ্বী নেই মাঠে। ব্যাস তাহলে তো হয়েই গেল। এই যখন নির্বাচন পূর্ব ধারনা, আর যখন আমাদের ইউনেস্কো হেরিটেজ হিসেবে উচ্চমান সম্পন্ন ! নির্বাচন কমিশন আছে তখন তো আইভির জয় সময়ের ব্যাপার মাত্র। এমন হলে নির্বাচনের পরদিন সবাই মেনে নেবে, যা হওয়ার তাই হয়েছে। তবে এর ব্যাতিক্রম হলে সবাই আবার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করবে, এবং নির্বাচনে তাহলে এখনো জয় পাওয়া যায়’ এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ দিতে পারবে সরকার!

সুযোগ দিতে পারবে বলেছি কেননা, সাধারনত এমন ভাবার সুযোগ অবশিষ্ট নেই। ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন নিয়ে যতখানি রাখঢাক ছিলে বর্তমান সরকার আর ক্ষমতাসীন জোটের, নিদেন পক্ষে একটু আধটু আ্লোচনার ভাণ করা, অথবা দেশের মানুষ বা বহির্বিশ্বকে দেখানোর যে তোড়জোড় ছিল এবার তার ছিটেফোঁটাও নেই। গতবার তবুও জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত তারানকো এসেছিলেন, দুই পক্ষ কথা বলার প্রয়োজন বোধ করেছিলেন। এবারে সেই সুযোগটুকু বর্তমান সরকার কাউকে দেবে না, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে, প্রয়োজনে নির্বাচন নিয়ে কাউকে কথা বলতে দেবে না সরকার সেটা বুঝে নিন।

নির্বাচন নিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আর কোন কথাই যে শুনতে চান না, সেটা সম্প্রতি তার সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন কমিশনে রকিব মার্কা কমিশনারের পরিবর্তে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য শিরদাঁড়া আছে এমন কাউকে নিয়োগের জন্য বিএনপি সংলাপের যে আবদার করেছে তাকে শিশুদের প্যানপ্যানানী হিসেবেই দেখছে বর্তমান সরকার সেটা নানান আচরণে স্পষ্ট। ২০০৭/৮ সালের দিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর একটি বহুল ব্যবহৃত নির্বাচনী ভাষণের বিষয় ছিল ‘জনগণের ভোট আর ভাতের অধিকার নিয়ে আর ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না ভবিষ্যতে কাউকে’। এখন সেই ছিনিমিনি খেলা এমন ভাবে বন্ধ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নিজে ভুলেও বলেন না, আমাদের সফলতার অন্যতম মাপকাঠি ‘দেশে অবাধ ও গ্রহনযোগ্য’ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী করেছে আওয়ামী লীগ। বরং তিনি হাসতে হাসতে সংবাদ সম্মেলনে বলতে পারেন ‘ কি আর করা, একটা না একটা তো বিরোধী দল লাগেই সরকার পরিচালনা করতে ।’ ৫ জানুয়ারী নির্বাচনের পর রওশন এরশাদের নেতৃত্বে বিরোধী দল আসল বিরোধী দল কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন এ কথা।

যেটা বলছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আর সরকারী দল হয়তো চাচ্ছে এবারের নির্বাচনটা একটু সুষ্ঠু হোক। নির্বাচন যেন সুষ্ঠু হলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বাইরে কলাগাছও জয়ী হতে পারে বাংলাদেশের যে কোন জায়গায়। এটা অনুমান নয়, এটা বাস্তবতা। ২০১৪ সালের ৫ টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জয় নিয়ে সেই ধারাবাহিকতা সৃষ্টি হয়েছিল যেটা থামানো হয়েছে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে, ঢাকা সিটি নির্বাচনে তার রেশ বহাল রাখা হয়েছে, আর পরবর্তীতে দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘জয়ের কুইনাইন’ খাওয়ানো হয়েছে সব নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে। এটা যারা বিশ্বাস করেন না তার ভিন্ন জগতে বাস করেন।

কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ভিন্ন জগতে বাস করেন না বলেই নির্বাচনকে ক্ষমতার কেবল মাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে টিকিয়ে রেখেছেন। সেই আনুষ্ঠানিকতায় তার ২০১৯ সালের নির্বাচনে নিরপেক্ষ একটা ভাব তৈরী করা প্রয়োজন বর্তমান সরকারের স্বার্থেই। সেখানে আইভি কে জিতিয়ে আনার স্বার্থ একেবারে নগন্য। এ ছাড়া এক ঢিলে দুটি পাখিও মারার একটি সুযোগ তৈরী হতে পারে আইভি পরাজিত হলে!

৫ বছর আগে আইভিকে থামতে বলেছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। আইভি থামেননি। শামীম ওসমানকে নৌকা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী, নৌকা প্রতীককে হারিয়েছিলেন সেলিনা হায়াৎ আইভি। কিন্তু ওসমান পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা আর আন্তরিকতার কখনই কোন ঘাটতি তৈরী হয়নি বর্তমান সরকারের । এমনকি নারায়াণগঞ্জে র্যা ব কর্তৃক সেভেন মার্ডার কেস এর প্রধান অভিযুক্ত শামীম ওসমানের ঘনিষ্টজন ছিল। হত্যাকাণ্ডে শামীম ওসমানের সংশ্লিষ্টতা সরাসরি না থাকলেও, খুনির সাথে খুন নিয়ে কথোপকথন এর অডিও ফাঁস হওয়ার পরও আইনের জিজ্ঞাসাবাদ থেকেও বাদ পড়েন শামীম ওসমান।

নাসিম ওসমান মৃত্যুর পর সে আসনের উপনির্বাচনে আরেক ভাই সেলিম ওসমানকে জেতাতে, সেখানে শামীম ওসমানের দাপটে অসহায়ত্বের চিত্র বর্ণনা করেছিলেন, এএসপি বশির নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা। ঐ ঘটনায় পুলিশ প্রসাশন খেপলেও বিশ্বস্ত শামীম ওসমান ছিলেন ধরাছোঁয়ার উর্ধ্বে। সৌভাগ্য বা দু্র্ভাগ্যবশত সেই সাক্ষাৎকারটি বশির সাহেব দিয়েছিলেন আমাকে। যার পরিনতি বশির সাহেবের কি হয়েছে জানি না, তবে আমার নিজের টা তো ভালো করেই জানি আমি। সে প্রসঙ্গে বলব না, যেটা বলতে চাই সেটা হলো সম্ভবত সেলিনা হায়াৎ আইভিকে দলীয় প্রতীক তুলে দেয়া হয়েছে জটিল একটি খেলার ক্ষেত্র হিসেবে। যেখানে আলোচনায় না থাকলেও জয়ী হয়ে আসতে পারেন প্রতিপক্ষের প্রার্থী সাখাওয়াৎ হোসেন।

যদিও তাকে নিয়ে আলোচনা কম। বিএনপি তার জয় আশা করছে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে। নারায়নগঞ্জে এবার মনে হয় সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। শামীম ওসমান যেহেতু এখন এমপি পদে তাই তার বোনের জন্য বুক ফেটে গেলেও তিনি মাঠে নামতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলন করে। যেটা তিনি তার ভাইয়ের জন্য করেছিলেন উপনির্বাচনে, যদিও তিনি তখনও এমপি পদে ছিলেন। কিন্তু এখন শামীম সাহেব ওজন কমানোর মতই তার ভোল পরিবর্তন করেছেন। আইভির জন্য ২টি নৌকা মার্কার শাড়ি কিনেছেন, আর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু সেলিনা হায়াৎ আইভি তার এই পাশে থাকার অর্থ বুঝেন, তাই তিনি ক’দিন আগে বলেছিলেন, ‘শামীম ওসমান সমর্থন করলে ভালো, না করলে আরো ভালো’। সুতরাং সমর্থন যখন করেছেন তখন অল্প ভালো হয়েছে, না করলে বেশি ভালো হতো আইভির জন্য।

৭১ টিভিতে শামীম ওসমান আর সেলিনা হায়াৎ আইভির প্রায় হাতাহাতির ভিডিওটি যারা ইউটিউবের কল্যাণে দেখেছেন তারা ভালো করেই জানবেন যে এই ক্ষত আর দাগ যাবার কথা নয় কারো মন থেকেই। আইভিকে সরকারের প্রতিপক্ষ থাকা অবস্থায় হারানো কঠিন, কিন্তু একপক্ষীয় অবস্থান যেহেতু কোন দিন সম্ভব নয়, তাই তাকে ‘সিস্টেম’ এ ফেলে বিনাশ করাটাই অনেক সহজ।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী ওসমান পরিবারের প্রতি সবসময়ই, এমনকি চরম বিতর্কিত পরিস্থিতিতেও আস্থার যে নিদর্শন রেখেছেন, তার ব্যাতিক্রম তো কিছু করেন নি শামীম ওসমান সাহেব।তাই প্রধানমন্ত্রী ও তার ভাইটির মনের খেদ পরিষ্কার করতে নিজেই যে উদ্যোগ নেননি, সেটা কে বলবে? এর মধ্য দিয়ে ওসমান পরিবারের পথের কাঁটা দূর হতে পারে, আর নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে বলে আবার একটা ধারণা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। অন্তত নারায়ণগঞ্জ সিটির চেয়ে সংসদ নির্বাচন নিয়ে মাথাটা বেশি ঘামানোর কথা প্রধানমন্ত্রীর। তাইতো তিনি নারায়ণগঞ্জের নির্বাচন প্রশ্নে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন তাকে আইভির বিপক্ষে না কথা বলতে।

২২ ডিসেম্বরে তাই নিজ গুণে যদি আইভি জয়ী হয়ে আসতে পারেন তাহলে সেটি তার আরো একটি ধারাবাহিক জয় হবে। তবে না হলে সেটা তার জন্য একটা পরাজয় হলেও বৃহৎ অর্থে জয় হবে নৌকা প্রতীকের। প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় নির্বাচন পরিকল্পনার জয় হবে। শামীম ওসমান পরিবাবেরর প্রতি ধারাবাহিক ভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার একটা জয় হবে। এখন দেখা যাক কি ফলাফল হয় সে নির্বাচনে।

ও হ্যা ভুলে গিয়েছিলেন, এলসেসিয়ান ডগ শব্দটা শামীম ওসমান সাহেব নিজেই বলেছিলেন সেলিম ওসমানের মৃত্যুর পর তার আসনে উপনির্বাচনের সময়ে। সাংবাদিকরা নানা দিক থেকে তার বিপক্ষ সংবাদ প্রচার করার কারণে ক্ষেপে গিয়ে বলেছিলেন তারা তাদের মালিকের পোষা কুত্তা এলসেসিয়ান ডগের মতই প্রভুর নির্দেশ পালন করেন। জ্ঞানী মানুষ তিনি, মিথ্যে বলেছেন সেটা বলার সুযোগ কি আছে অন্তত এখন আর?

সাহেদ আলম : সাংবাদিক, কলাম লেখক।